ইন্টারনেটের সুফল ৮৫ শতাংশে, প্রয়োজন সাবধানতা
নেদারল্যান্ডের ‘টিলবার্গ ইউনিভার্সিটি’র গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষের জীবনেই ইন্টারনেট সুফল বয়ে আনছে। তারপরও বাকি নেতিবাচকতার বিবেচনায় ইন্টারনেট ব্যবহারে ‘সাবধানতা’ অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন জার্মানির ‘ইউনিভার্সিটি অফ উর্জবুর্গ’য়ের ‘সাইকোলজি অফ কমিউনিকেইশন অ্যান্ড নিউ মিডিয়া’র অধ্যাপক মার্কাস আপিল।
এদিকে ‘টেকনোলজি, মাইন্ড অ্যান্ড বিভেইভিওর’ সাময়িকীতে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন বলছে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন- ইন্টারনেট তাদের জীবনে নানান সুফল বয়ে এনেছে। ঘরে বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আটটি বিভিন্ন বিভাগের ওপর পাওয়া তথ্য যাচাই করে ‘পরিতৃপ্তি ও সামাজিক জীবন’ অংশে এই ধারণা পাওয়া গেছে। পর্যালোচনার জন্য ‘গালআপ ওয়ার্ল্ড পোল’য়ের বাৎসরিক প্রতিবেদন থেকে ১৬৮টি দেশের ২৫ লাখ মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। যেখানে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল- যারা ব্যবহার করেন না তাদের তুলনায় ইন্টারনেট যারা ব্যবহার করেন তাদের কতটুকু কল্যাণ হয়েছে?
পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক এই গবেষণার প্রধান ডা. ম্যাটি ভোরি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনডটকম-কে বলেছেন, “প্রায় সবাই মনে করেন প্রযুক্তির শক্তিতে চলা ইন্টারনেট মহামারীর মতো মানসিক ক্ষতি করছে। তবে আমাদের গবেষণা বলছে উল্টো।”
ভোরি বলেন, “আমাদের গবেষণটা পর্যবেক্ষণমূলক। তাই বিস্তারিত তথ্যের জন্য অংশগ্রহণকারীদের আথিক বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আমাদের ফলাফলে সাধারণভাবে দেখা যেতে পারতো- যাদের টাকা বেশি তারা স্বাস্থ্যসম্পর্কিত বিষয়ে আগ্রহ বেশি হয়। সেটা কিন্তু হয়নি।”
বিভিন্ন প্রভাবক বিশ্লেষণ ও যুক্ত করে দেখা গেছে যাদের আয়ের পরিমাণ কম তারাও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সুবিধা পেয়েছে।
তবে “সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসেবে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না যে, প্রতিটা খারাপ প্রভাবের বিপরীতে সমাধান কী? তবে এতটুকু বলতে পারি সাবধানতার প্রয়োজন রয়েছে”- যোগ করেন তিনি। বলেছেন, যদি ইন্টারনেটের কোনো কিছু খারাপ লাগে সেটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। একই সুর ছিলো উর্জবুর্গ’য়ের ‘সাইকোলজি অফ কমিউনিকেইশন অ্যান্ড নিউ মিডিয়া’র অধ্যাপক মার্কাস এর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “কোনো কিছু দেখতে গিয়ে যদি মনে অস্বস্তি কাজ করে তবে বন্ধ করে অন্য কিছু দেখুন।”





